Skip to main content

Posts

Showing posts from June, 2021

সুপারমুন - বর্তমান সময়ের আলোচিত সমালোচিত এবং কৌতুহলপূর্ণ রহস্য

সুপারমুন - বর্তমান সময়ের আলোচিত সমালোচিত এবং কৌতুহলপূর্ণ রহস্য। একে তো পুর্ণিমা তার উপর সেদিন আবার রাতের আকাশে চাঁদ থাকবে স্বাভাবিক চাঁদের চাইতে ১৪শতাংশ বড় এবং ৩০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল।তাই বহু মানুষের জন্য আকাঙ্খিত একটি রাত ও বলা যায়। চাঁদ যখন পৃথিবীর খুব কাছে অবস্থান করে তখন চাঁদকে পৃথিবী থেকে তুলনামূলকভাবে অনেক বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। পূর্ণ গোলাকার চাঁদের এই অবস্থাকে সুপারমুন বলে। সহজ কথায় বলতে গেলে সুপারমুন হচ্ছে চাঁদের একটি দশা বা অবস্থা। যেদিন চাঁদের আকার স্বাভাবিকের চাইতে বড় এবং উজ্জ্বলতা থাকবে অনেক বেশি। সুপারমুনের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে "পেরিজি মুন"। পেরিজি অর্থ হচ্ছে " পৃথিবীর নিকটতম "। বার্ষিক প্রদক্ষিনের সময় চাঁদ পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসে, তখনই আবির্ভাব ঘটে সুপারমুনের।  পৃথিবী ও চাঁদের সর্বোচ্চ দূরত্ব ৪০৫৬৯৬ কি.মি. এবং সর্বনিম্ন দূরত্ব ৩৬৩১০৪ কি.মি.। তাহলে বলাই বাহুল্য সুপারমুনের সময় পৃথিবী ও চাঁদের দূরত্ব ৩৬৩১০৪ কি. মি. এর কাছাকাছিই থাকবে। আজ থেকে ৪২ বছর আগে ১৯৭৯ সালে বিখ্যাত জ্যোতিষী রিচার্ড নোলে সুপারমুন আবিষ্কার করেন। তিনিই প্রথম এর  এর নামকরণ করেন সুপারমুন। এত ...

কার্ল ফ্রিড‌রিশ গাউস : গণিতের রাজপুত্র

গণিতের রাজপুত্র কে? এই প্রশ্নের জবাবে নি:সন্দেহে যার নামটি মাথায় আসে, তিনি আর কেউই নন, বরং Carl Friedrich Gauss। ১৭৭৭ সালের আজকের এই দিনটিতে সর্বকালের অন্যতম সেরা এই গণিতবিদের জন্ম হয়েছিল। তাঁর জন্মদিনকে কেন্দ্র করেও কিন্তু মজার একটি ঘটনা রয়েছে। তাঁর জন্ম হয়েছিল বর্তমানে নিম্ন জাখসেন অঞ্চলের অন্তর্গত ব্রাউনশ্ভা‌ইগ শহরে, অত্যন্ত গরিব একটি পরিবারে। জন্মের সময় তাঁর মা তার ছেলের জন্মতারিখ মনে রাখতে পারেননি। কিন্তু  তাঁর মা এর ভাষ্য অনুযায়ী তাঁর জন্ম ঘটেছিল সেসময়ের রাজার রাজ্যাভিষেকের ঠিক আট দিন আগে, কোনো এক বুধবারে। যা কিনা আবার সে সময়ের ইস্টার সানডের ঠিক ৩৯ দিন আগের একটি ঘটনা ছিল। এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞানী Gauss এসব হিসাব নিকাশ কষে "Finding The Date of Easter" এর প্রসংগে তাঁর জন্মতারিখ বের করে ফেলেন এবং সেটা ছিল ১৭৭৭ সালের আজকের এই দিন অর্থাৎ ৩০ এপ্রিল।  শৈশব থেকেই তিনি তার অসাধারণ গাণিতিক প্রতিভার পরিচয় দিতে শুরু করেন। কথিত আছে মাত্র তিন বছর বয়সে তিনি তাঁর বাবার হিসাবের খাতার ভুল ধরে দেন মনে মনে গণনা করে। শুধু এই নয়, একবার তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দুষ্টু ছাত্রদের ব্যস্ত র...

আলোক দূষণ

  আমরা দূষণ বলতেই বুঝি যেকোন বিষয়ের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার এবং অবশ্যই যেটা সভ্যতা এবং গোটা সৃষ্টিকুলের কিছু না কিছুর ক্ষতির কারণ। ঠিক তেমন মাত্রাতিরিক্ত আলো ডেকে আনতে পারে অনেক বড় ক্ষতি। আমরা সহজ ভাষায় বলতে পারি মাত্রাতিরিক্ত, ক্ষতিকর ও কৃত্রিম আলোকসজ্জা যখন প্রাণীকুলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে, তখনই তাকে আমরা আলোক দূষণ বলি। এই আলোক দূষণ আমাদের মহাকাশের সৌন্দর্য নষ্ট করে, মহাকাশ গবেষণাকে ব্যাহত করে, জীব বৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলে, এমনকি স্বাভাবিক স্বাস্থ্যকে ভয়ঙ্করভাবে নষ্ট করে। খুব বেশি নয়, আজ থেকে মোটামুটি ৮০ বা ৯০ বছর আগেও আমরা বিশ্বের বড় বড় শহর থেকে রাতের আকাশ সহজেই পর্যবেক্ষন করতে পেরেছিলাম। বিভিন্ন রকম নক্ষত্রের দেখা মিলত আকাশে এবং এগুলোর প্রমাণ আমরা পাই তৎকালীন শিল্প সাহিত্যে। এছাড়া, তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে একটু পড়াশুনা করলেও এটা পরিষ্কার হয়। কিন্তু, যখন থেকেই আমরা কৃত্রিম আলোর জগতে প্রবেশ করলাম তখন থেকেই এইসব প্রাকৃতিক বিষয়গুলো থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরে আসতে থাকি। বর্তমানে পৃথিবীর বুকে হয়তো একটা বা দুইটা শহরের সন্ধান মিলবে যেখান থেকে আমরা খালি চোখে আকাশ পর্যবেক্ষন...

পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ, সুপারমুন বা একটি মেঘাচ্ছন্ন রাত

The total lunar eclipse of Jan 20-21,2019 Image by Imelda Joson and Edwin Aguirre   পৃথিবীব্যাপী বিবিধ পর্যবেক্ষকদের কাছে চন্দ্রগ্রহণ একটি আকাঙ্ক্ষিত মহাজাগতিক প্রদর্শনী। চাঁদ, সূর্য এবং পৃথিবী এই প্রদর্শনীটির মূল কলাকুশলী। গ্রহণের সময় এই তিনটি জ্যোতিষ্ক মোটামুটি একই সরলরেখায় অবস্থান করে থাকে। অন্যথায়, চাঁদের পৃষ্ঠে পৃথিবীর ছায়াপাত সম্ভব হয় না এবং চন্দ্রগ্রহণও সংঘটিত হতে পারে না। গ্রহণ পুরোপুরি বুঝতে গেলে আলোক উৎসের ভিত্তিতে হরেক রকম ছায়ার ব্যাপারে ধারণা থাকা জরুরি। আলোক উৎসটি যদি বিন্দু উৎস না হয় এবং আকারে প্রতিবন্ধকের তুলনায় বড় হয়, তখন উপছায়া(Penumbra) এবং প্রচ্ছায়া(Umbra) নামক দুটি ভিন্ন পরিভাষার প্রয়োজন হয়। উপছায়া অঞ্চলটি জ্যামিতিক ছায়া অঞ্চলের আবছা অন্ধকার অংশ এবং গাঢ় অন্ধকার অংশটি হলো প্রচ্ছায়া। আলোক উৎস সূর্য,প্রতিবন্ধক রূপে পৃথিবী, প্রচ্ছায়া, উপচ্ছায়া এবং Antumbra অঞ্চল যখন সূর্য,পৃথিবী এবং চাঁদ একই সরলরেখায় থাকে, এবং চাঁদটি পুরোপুরি প্রচ্ছায়া অঞ্চলে অবস্থান করতে পারে, তখন একটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ সংঘটিত হয়। চাঁদ যদি পৃথিবীর প্রচ্ছায়া অঞ্চলের আংশিক সংস্পর্শে থাকে তখন সেটিকে ব...

উদ্ভাবনের গল্প!

Image by ASSR উদ্ভাবন! বেশ ভারী একটা শব্দ সত্যিই। তাই হয়তো অনেকেই ভেবে থাকে, "এসব আমাকে দিয়ে হবে না!" এই ভেবে তারা নিজের গন্ডির মধ্যে জীবন পার করে দেয়। কিন্তু আমাদের মাঝে এমন কেউ কেউ আছে যারা ভাবে, "না! এটা আরো সহজভাবে করা যায়। অথবা এভাবে করলে সময় কম লাগবে।" আর এই চিন্তা ও কৌতুহল থেকেই ইনোভেশন তথা আবিষ্কারের পদযাত্রা।  ইংরেজীতে প্রচলিত একটা শব্দ আছে, "ওয়াট ইফ"। "এমন না হয়ে যদি অন্যরকম হতো", এই জায়গা থেকে উদ্ভাবনের শুরু। "হতে পারে ছোটখাট কিছু, কিন্তু এমন না করে যদি অন্য উপায়ে করা যায়" এই ধারনা থেকেই আবিষ্কারের মূল উত্থান। এই কনসেপ্ট থেকে কত মানুষের হাতধরে বিশ্ববাসী পেল হাজারো নতুন নতুন আবিষ্কার! এইসব ব্যক্তির ইনোভেশনের ইন্সপিরেশনে তুমিও হতে পারো তাদেরই তালিকায় সামিল।     কেউ একজন একবার বলেছিলেন," উড়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমাদের পূর্বপুরুষদের দ্বারা আমাদের হাতে তুলে দেওয়া একটি ইচ্ছে, যা প্রাগৈতিহাসিক সময়ে পাখিদের আকাশ ভ্রমণ দেখে ওদের উপর এক ধরনের ঈর্ষার জন্ম দিয়েছিল। যদি আমরাও পাখির মত অনেক সময় উড়তে পারতাম! ওরা পারলে আমরা কেন নয়?...

লাইট হাউজ:বাতিঘর

Image by ASSR বাতিঘর বা লাইট হাউজ হচ্ছে এমন এক ধরনের সুউচ্চ মিনার আকৃতির দালান যা থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় আলো ফেলে সমুদ্রের জাহাজের নাবিককে দিক নির্দেশনা দেয়া হয় এবং সেই সাথে সমুদ্রের অগভীর অঞ্চল সম্পর্কে নাবিককে সতর্ক করতে বাতিঘর ব্যবহার করা হয়। প্রথম পরিচিত বাতিঘরটি ছিল মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ার ফেরোস। টলেমি প্রথম এবং তাঁর পুত্র দ্বিতীয় টলেমি এটি ৩০০ থেকে  ২৮০ খ্রিস্টপূর্ব  সময়ের মধ্যে তৈরি করেছিলেন। এটি প্রায় ৪৫০ ফুট উঁচুতে দাঁড়িয়ে ছিল। এই বাতিঘরটি প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম সপ্তাশ্চর্য। নির্মাণের পর প্রায় শত বর্ষ ধরে এটি পৃথিবীর অন্যতম উচু দালান হিসাবে চিহ্নিত ছিল। পরে ৯৫৬ থেকে ১৩২৩ খ্রিষ্টাব্দে যে কয়টি ভুমিকম্প হয়েছিল তাতে এটি ভেঙ্গে পড়ে। বাংলাদেশে বাতিঘর মোট ৬ টি। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন হচ্ছে কুতুবদিয়া যা একমাত্র দ্বীপ বাতিঘর৷ বর্তমানে এটি ১২০ ফুট উচু। প্রতি ১০ সেকেন্ডে তিনটি সাদা আলোর ঝলকানি দেয় এ লাইট হাউস। এছাড়াও বাংলাদেশের  অন্যান্য লাইটহাউজ  এর মধ্যে রয়েছে সেন্টমার্টিন বাতিঘর,কক্সবাজার বাতিঘর,নরম্যানস পয়েন্ট  বাতিঘর, পতেঙ্গা বাতিঘর ও হিরোন পয়েন...