চাঁদ যখন পৃথিবীর খুব কাছে অবস্থান করে তখন চাঁদকে পৃথিবী থেকে তুলনামূলকভাবে অনেক বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। পূর্ণ গোলাকার চাঁদের এই অবস্থাকে সুপারমুন বলে। সহজ কথায় বলতে গেলে সুপারমুন হচ্ছে চাঁদের একটি দশা বা অবস্থা। যেদিন চাঁদের আকার স্বাভাবিকের চাইতে বড় এবং উজ্জ্বলতা থাকবে অনেক বেশি।
সুপারমুনের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে "পেরিজি মুন"। পেরিজি অর্থ হচ্ছে " পৃথিবীর নিকটতম "। বার্ষিক প্রদক্ষিনের সময় চাঁদ পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসে, তখনই আবির্ভাব ঘটে সুপারমুনের।
পৃথিবী ও চাঁদের সর্বোচ্চ দূরত্ব ৪০৫৬৯৬ কি.মি. এবং সর্বনিম্ন দূরত্ব ৩৬৩১০৪ কি.মি.। তাহলে বলাই বাহুল্য সুপারমুনের সময় পৃথিবী ও চাঁদের দূরত্ব ৩৬৩১০৪ কি. মি. এর কাছাকাছিই থাকবে।
আজ থেকে ৪২ বছর আগে ১৯৭৯ সালে বিখ্যাত জ্যোতিষী রিচার্ড নোলে সুপারমুন আবিষ্কার করেন।
তিনিই প্রথম এর এর নামকরণ করেন সুপারমুন। এত বছর আগে এটি আবিষ্কৃত হলেও গত কয়েকবছর ধরে সুপারমুন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বেশি। তবে বিজ্ঞানিদের কাছে এটি পেরিজি মুন বলেই বেশি পরিচিত।
নোলের বক্তব্য অনুযায়ী চাঁদকে পৃথিবী থেকে প্রায় ২২৪৮৫১ মেইল দূরে থাকতে হয়। যখন এই দূরত্বের মাঝামাঝি চলে আসে চাঁদ, তখনই পূর্ণচাঁদ বা সুপারমুনের ঘটনা ঘটে। প্রতিটি ১৪ চান্দ্রমাস সম্পন্ন হওয়ার পর একটি সুপারমুন ঘটে থাকে। অর্থাৎ একটি সুপারমুন ঘটার পর ১৫ তম পূর্ণিমাটি হচ্ছে সুপারমুন। সময়ের হিসেবে এটি ১ বছর ১ মাস ১৮ দিন।
সাধারণত নদীতে জোয়ারের ক্ষেত্রে পূর্ণিমার চাঁদের প্রভাব রয়েছে। কিন্তু এতে সুপারমুনের কোন প্রভাব নেই। বড়জোড় অন্যান্য পূর্ণিমার চেয়ে পানি সামান্য একটু উপর দিয়ে যাবে। তবে তা এতটাই নগণ্য যে স্বাভাবিক চোখে তেমন পার্থক্য ধরা পড়ে না।

Comments
Post a Comment