Skip to main content

Posts

হিউ নরম্যান রস: কৌতূহলী অনুসন্ধানকারী থেকে পুরাতন পৃথিবী সৃষ্টিবাদী গোষ্ঠী "Reason to Believe" এর প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার গল্প

  সত্য-মিথ্যা, তর্কে-বিতর্কে সমৃদ্ধ এই বিজ্ঞানের পথচলার সাথে যারা প্রতিনিয়ত সৃষ্টিকর্তা ও তাঁর অসীম মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য উদঘাটনের যোগসূত্র খুঁজে বেড়াচ্ছেন, তাদের মধ্যে কানাডিয়ান অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট হিউ নরম্যান রস অন্যতম। আজ তার ছিয়াত্তরতম জন্মবার্ষিকী।  ১৯৪৫ সালের ২৪ শে জুলাই কানাডার কুইবেক, মন্ট্রিলে জন্মগ্রহণ করেন হিউ রস। জোতির্বিজ্ঞানী হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন খ্রিষ্টান অ্যাপোলোজিস্ট এবং পুরাতন পৃথিবী সৃষ্টিবাদী। তিনিই "𝐑𝐞𝐚𝐬𝐨𝐧 𝐭𝐨 𝐁𝐞𝐥𝐢𝐞𝐯𝐞" (𝐑𝐓𝐁) এর প্রতিষ্ঠাতা। প্রকৃতি ও প্রত্যেকটি সৃষ্টির মধ্যে স্রষ্টার ভূমিকা ব্যখ্যা করে তিনি অনেক বই রচনা করেছেন যা বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে। তার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো হচ্ছে: 𝐓𝐡𝐞 𝐂𝐫𝐞𝐚𝐭𝐨𝐫 𝐚𝐧𝐝 𝐭𝐡𝐞 𝐂𝐨𝐬𝐦𝐨𝐬, 𝐓𝐡𝐞 𝐅𝐢𝐧𝐠𝐞𝐫𝐩𝐫𝐢𝐧𝐭 𝐨𝐟 𝐆𝐨𝐝,𝐖𝐡𝐲 𝐭𝐡𝐞 𝐔𝐧𝐢𝐯𝐞𝐫𝐬𝐞 𝐢𝐬 𝐭𝐡𝐞 𝐰𝐚𝐲 𝐢𝐭 𝐢𝐬,𝐀 𝐌𝐚𝐭𝐭𝐞𝐫 𝐨𝐟 𝐃𝐚𝐲𝐬, 𝐁𝐞𝐲𝐨𝐧𝐝 𝐭𝐡𝐞 𝐂𝐨𝐬𝐦𝐨𝐬 ইত্যাদি।  মানবসভ্যতার প্রারম্ভ থেকেই কৌতূহল খুলে দিয়েছে নতুন নতুন উদ্ভাবনার দ্বার। হিউ রসের ক্...

বজ্রপাত সম্পর্কে কিছু মজার তথ্য

  বজ্রপাত বলতে মূলত  আকাশের আলোর ঝলকানিকে বুঝায়। এই সময় উক্ত এলাকার বাতাসের প্রসারন এবং সংকোচনের ফলে আমরা বিকট শব্দ শুনতে পাই। এ ধরনের বৈদ্যুতিক আধানের নির্গমন দুটি মেঘের মধ্যে অথবা একটি মেঘ এবং ভূমির মধ্যেও হতে পারে। বজ্রপাত সম্পর্কে কিছু মজার তথ্য : বজ্রসংঘটিত হবার স্থানের তাপমাত্রা প্রায় ৩০,০০০ কেলভিনের মত যা সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার ৫ গুণ। প্রতি বজ্রপাতে প্রায়শই ১০০ মিলিয়ন ভোল্ট বিভব পাওয়া যায় যা দিয়ে ১টা ৬০ ওয়াটের বাল্ব একটানা ৬ মাস জ্বলতে পারবে। একটা বড়সড় বজ্রপাতের মোট শক্তি একটি পারমাণবিক বোমার চেয়েও বেশি।

মারিয়াম মির্জখনি : ফিল্ডস মেডেল পাওয়া প্রথম নারীর গল্প

  জ্যামিতি শাস্ত্রের একটি সনাতন ধারণা ইউক্লিডিয়ান তল, যেখানে বলা হয় যেকোন একটি নির্দিষ্ট বিন্দুগামী পরস্পর সমান্তরাল রেখা কখনো অঙ্কন করা সম্ভব না। এই সনাতন ধারা প্রথম প্রশ্নবিদ্ধ হয় হাইপারবোলিক সারফেস বা বক্র পৃষ্ঠতলের ধারণা থেকে। এই বক্র পৃষ্ঠতলের ধারণা নিয়ে যেসকল গণিতবিদ কাজ করেছেন তার মধ্যে অন্যতম ইরানিয়ান গণিতবিদ মারিয়াম মির্জাখানি। এই বিখ্যাত গণিতবিদ মূলত বক্রতলের প্রতিসাম্য ব্যাখায় কাজ করেছিলেন। এছাড়া, ২০১৪ সালে গণিত শাস্ত্রের সবচেয়ে বড় পুরস্কার ফিল্ডস পদক লাভ করেন। তিনিই পৃথিবীর প্রথম নারী হিসেবে এই খেতাব অর্জন করেন। তিনি ১৯৯৪ সালে হংকং-এ এবং ১৯৯৫ সালে কানাডাতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক গনিত অলিম্পিয়াডে (আইএমও) স্বর্ণপদক লাভ করেন। এই ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন বিশ্বের প্রথম নারী। এছাড়াও তিনি ব্লু মেন্থাল এ্যাওয়ার্ড (২০০৯), স্যাটার প্রাইজ (২০১৩), ক্লে রিসার্চ এ্যাওয়ার্ড (২০১৪), আইপিএম ফেলোশিপ (১৯৯৫), হার্ভার্ড জুনিয়র ফেলোশিপ (২০০৩) সহ আরো বেশ কিছু সম্মাননা লাভ করেন। মির্জাখানি ১৯৭৭ সালের ৩রা মে ইরানের রাজধানী তেহরানে জন্মগহণ করেন। ইরানের শারিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনলজি থেকে গণিতশাস্ত্রে ব...

ভেরা রুবিন : ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্ব প্রমাণকারী প্রথম ব্যক্তিত্ব

  বেশ কিছু যুগ আগের কথা। একটা ছোট্ট মেয়ে জানালা দিয়ে অপলক দৃষ্টিতে নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে থাকত। তার অনেক বছর পরে, নিজের শৈশব নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, "ঘুমানোর চেয়ে রাত জেগে নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে থাকতেই আমার বেশি ভালো লাগত।" এই ছোট্ট মেয়েটি বড় হয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানকে বেছে নেয় এবং তাঁর পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা থেকে উঠে আসে কৃষ্ণবস্তুর ধারণা। সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানমহল নতুনভাবে ভাবতে শুরু করে।  বলছি কৃষ্ণবস্তুর আবিষ্কারক, বরেণ্য নারী জ্যোতির্বিদ ভেরা রুবিনের কথা। আমেরিকান এই জ্যোতির্বিদ ১৯২৩ সালের ২৩শে জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। ভেরা রুবিনের আটানব্বইতম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে Astronomy and Science Society of RUET এর আজকের আয়োজন। নারীরাই ছিলেন ভেরা রুবিনের মূল অনুপ্রেরণা ১৯৪৫ সালে ভেরা রুবিন যখন কলেজে যেতে শুরু করলেন, তখনও মেয়েদের বিজ্ঞান পড়তে নিরুৎসাহিত করা হত। যদিও কিছু অপ্রতিরোধ্য নারীরা তখনও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে বিজ্ঞানে অবদান রাখা শুরু করেছেন, তারপরও সেই বিষয়গুলো খুবই হালকা দৃষ্টিতে দেখা হত। যথাযোগ্য মর্যাদা কখনোই দেয়া হত না। তাঁদেরই একজন ছ...

জোসেলিন বেল বার্নেলের পালসার আবিষ্কারের গল্প!

বিখ্যাত নারী জ্যোতির্বিদ জোসেলিন বেল বার্নেলের আটাত্তরতম জন্মবার্ষিকী আজ। কৃতবিদ্য এই জ্যোতির্বিদ পৃথিবীব্যাপী বিখ্যাত পালসার আবিষ্কারের কারণে। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে তাঁরই লেখা একটি আত্মজীবনীমূলক প্রবন্ধের অনুবাদ করা হয়েছে Astronomy & Science Society of RUET এর পক্ষ থেকে। পালসার আবিষ্কারের গল্প: গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকের দিকে ফিরে তাকালে দেখতে পাই মেয়েদের পেশাগত জীবন ছিল একটা সীমিত গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ। আমি তখন ছোট। মেয়ে হিসেবে সমাজ আমার কাছে খুব সামান্যই চাইত। বিয়ে করা এবং একজন অর্ধাঙ্গ-অনুগত ঘরবন্দী গৃহিণী হিসেবে জীবন কাটানো। এইসব স্বতঃসিদ্ধের ওপর ভিত্তি করেই মেয়েদের জীবনের নানা দিক নির্ধারিত হয়ে যেত। আমরা যখন মাধ্যমিক স্কুলে যেতে শুরু করলাম, লক্ষ্য করলাম, ছেলেরা বিজ্ঞান শিখছে, কিন্তু মেয়েদের শেখানো হচ্ছে সূচিশিল্প ও রান্নার কাজ৷ বিজ্ঞানকে আমার খুবই কৌতূহলোদ্দীপক মনে হলো এবং আমি মনে প্রাণে বিজ্ঞান পড়তে চাইলাম। পুরো বিজ্ঞান ক্লাসে আমরা মাত্র তিনজন মেয়ে ছিলাম, বাকি সকলেই ছেলে। সম্ভবত আমরাই আমাদের স্কুলে প্রথমবারের মত মেয়ে শিক্ষার্থী হিসেবে বিজ্ঞান পড়তে শুরু করেছিলাম। আমাদের প্রথম টার...