আমরা দূষণ বলতেই বুঝি যেকোন বিষয়ের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার এবং অবশ্যই যেটা সভ্যতা এবং গোটা সৃষ্টিকুলের কিছু না কিছুর ক্ষতির কারণ। ঠিক তেমন মাত্রাতিরিক্ত আলো ডেকে আনতে পারে অনেক বড় ক্ষতি। আমরা সহজ ভাষায় বলতে পারি মাত্রাতিরিক্ত, ক্ষতিকর ও কৃত্রিম আলোকসজ্জা যখন প্রাণীকুলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে, তখনই তাকে আমরা আলোক দূষণ বলি। এই আলোক দূষণ আমাদের মহাকাশের সৌন্দর্য নষ্ট করে, মহাকাশ গবেষণাকে ব্যাহত করে, জীব বৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলে, এমনকি স্বাভাবিক স্বাস্থ্যকে ভয়ঙ্করভাবে নষ্ট করে।
খুব বেশি নয়, আজ থেকে মোটামুটি ৮০ বা ৯০ বছর আগেও আমরা বিশ্বের বড় বড় শহর থেকে রাতের আকাশ সহজেই পর্যবেক্ষন করতে পেরেছিলাম। বিভিন্ন রকম নক্ষত্রের দেখা মিলত আকাশে এবং এগুলোর প্রমাণ আমরা পাই তৎকালীন শিল্প সাহিত্যে। এছাড়া, তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে একটু পড়াশুনা করলেও এটা পরিষ্কার হয়। কিন্তু, যখন থেকেই আমরা কৃত্রিম আলোর জগতে প্রবেশ করলাম তখন থেকেই এইসব প্রাকৃতিক বিষয়গুলো থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরে আসতে থাকি। বর্তমানে পৃথিবীর বুকে হয়তো একটা বা দুইটা শহরের সন্ধান মিলবে যেখান থেকে আমরা খালি চোখে আকাশ পর্যবেক্ষন করতে পারব। আর এগুলো সবই হচ্ছে একমাত্র আলোক দূষণের জন্য। অতিরিক্ত কৃত্রিম আলো আমাদের স্বাভাবিক আলোক দর্শন ব্যাহত করছে।
পৃথিবীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো জীব বৈচিত্র্য। আলোক দূষণ এই জীব বৈচিত্র্যকে ব্যাহত করছে। কৃত্রিম আলোর দরুণ উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, বন্যপ্রাণী যাদের বৃদ্ধি ,বিকাশ, খাদ্যগ্রহণ, ঘুম ইত্যাদির ক্ষেত্রে আলো একটি নিয়ামকের ভূমিকা পালন করে, তাদের সেই স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়।
আমাদের তথা মানবজাতির মানসিক স্বাস্থ্য সরাসরি আলোর সাথে সম্পৃক্ত। আমাদের অবচেতন মন এবং এর স্থিতিশীল অবস্থার উপর বেশ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে আলোক দূষণ । আমাদের মেজাজ হারানো, মানসিক অস্থিরতা, ঘুম না হওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে এই আলোক দূষণের ফলে। সর্বশেষ এবং সবচেয়ে ভয়ংকর হলো শক্তির অপচয়। আমাদের মহাবিশ্বে শক্তি কিন্তু প্রায় শেষের পথে। এইযে বিপুল পরিমাণে কৃত্রিম আলো, এতে বিশাল পরিমান শক্তির অপচয় হয়, যেটা সত্যিই উদ্বেগজনক ও আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।

Comments
Post a Comment