![]() | |
| The total lunar eclipse of Jan 20-21,2019 Image by Imelda Joson and Edwin Aguirre | |
![]() |
| আলোক উৎস সূর্য,প্রতিবন্ধক রূপে পৃথিবী, প্রচ্ছায়া, উপচ্ছায়া এবং Antumbra অঞ্চল |
যখন সূর্য,পৃথিবী এবং চাঁদ একই সরলরেখায় থাকে, এবং চাঁদটি পুরোপুরি প্রচ্ছায়া অঞ্চলে অবস্থান করতে পারে, তখন একটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ সংঘটিত হয়। চাঁদ যদি পৃথিবীর প্রচ্ছায়া অঞ্চলের আংশিক সংস্পর্শে থাকে তখন সেটিকে বলা হয় আংশিক চন্দ্রগ্রহণ৷ চন্দ্রগ্রহণ শুধুমাত্র লুনার নোড এর কাছাকাছি অবস্থিত পূর্ণিমা তিথিতে সংঘটিত হতে পারে।প্রতিমাসেই একটি করে পূর্ণচন্দ্রের দেখা পেলেও সকল পূণিমা তিথিতেই কিন্তু চন্দ্রগ্রহণ ঘটে না। কেননা, চাঁদ ভূ-অক্ষ তলের (Earth's orbital plane) সাথে ৫° পরিমাণ হেলে থাকে। এই কারণে চাঁদ তার পূর্ণিমা তিথিতে ভূ-কক্ষের সাপেক্ষে বেশ উঁচুতে বা নিচুতে অবস্থান করে। যে পূর্ণিমায় চাঁদ, সূর্য এবং পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করতে পারে সেই পূর্ণিমাতেই চন্দ্রগ্রহণ হতে পারে।
আমরা জানি,চাঁদের নিজস্ব আলো নেই, সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত হয়ে চাঁদকে আলোকিত দেখায়। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর কারণে চাঁদে সূর্যরশ্মি পৌঁছাতে পারে না। এইসময় একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে, আমরা চাঁদটিকে লালচে আভাময় দেখতে পাই। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময় পর্যবেক্ষিত এই লালচে চাঁদটি পর্যবেক্ষকদের 'ব্লাডমুন'(Blood moon) নামে নামাঙ্কিত করতে উৎসাহিত করেছে। ঠিক যে প্রক্রিয়াটিতে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়কে লালচে আভাময় ও রঙিন দেখতে পাওয়া যায়, ব্লাডমুনের কারণও সেই একই। পৃথিবীর বায়ুমন্ডল নানা রকমের গ্যাস, ক্ষুদ্র ধূলিকণা ও পানির কণার সমন্বয়ে গঠিত।
![]() |
| প্রচ্ছায়া অঞ্চলে অবস্থানকালীন চাঁদের পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ Courtesy: timeanddate.com |
সূর্যরশ্মি পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশের পর বিভিন্ন দিকে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে, যদিও আলোক বর্ণালির সকল রং সমভাবে বিক্ষিপ্ত হয় না। নীল বা বেগুনির মত ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোগুলো লাল বা কমলার তুলনায় বেশি বিক্ষিপ্ত হয়। বাকি থাকা লালচে কমলা আলোটুকু প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে পড়ে এবং একারণেই চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদকে লালচে দেখায়। তবে কিছুক্ষেত্রে হলদে, বাদামী বা কমলা চাঁদও দেখা যায়।
চাঁদ যখন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি বিন্দু বা অনুভূতে( perigee) অবস্থান করে তখন এটিকে অপভূ (apogee) অবস্থানের চাঁদের চেয়ে ১৪ শতাংশ বড় এবং ৩০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল দেখায়। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন চাঁদটিকে 'সুপারমুন' বলা হয়ে থাকে। যদিও 'সুপারমুন' একটি তুলনামূলক নতুন ধারণা এবং স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পরিভাষা নয়। তবে পৃথিবীব্যাপি পর্যবেক্ষকদের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা।



Comments
Post a Comment