গণিতের রাজপুত্র কে? এই প্রশ্নের জবাবে নি:সন্দেহে যার নামটি মাথায় আসে, তিনি আর কেউই নন, বরং Carl Friedrich Gauss। ১৭৭৭ সালের আজকের এই দিনটিতে সর্বকালের অন্যতম সেরা এই গণিতবিদের জন্ম হয়েছিল। তাঁর জন্মদিনকে কেন্দ্র করেও কিন্তু মজার একটি ঘটনা রয়েছে। তাঁর জন্ম হয়েছিল বর্তমানে নিম্ন জাখসেন অঞ্চলের অন্তর্গত ব্রাউনশ্ভাইগ শহরে, অত্যন্ত গরিব একটি পরিবারে। জন্মের সময় তাঁর মা তার ছেলের জন্মতারিখ মনে রাখতে পারেননি। কিন্তু তাঁর মা এর ভাষ্য অনুযায়ী তাঁর জন্ম ঘটেছিল সেসময়ের রাজার রাজ্যাভিষেকের ঠিক আট দিন আগে, কোনো এক বুধবারে। যা কিনা আবার সে সময়ের ইস্টার সানডের ঠিক ৩৯ দিন আগের একটি ঘটনা ছিল। এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞানী Gauss এসব হিসাব নিকাশ কষে "Finding The Date of Easter" এর প্রসংগে তাঁর জন্মতারিখ বের করে ফেলেন এবং সেটা ছিল ১৭৭৭ সালের আজকের এই দিন অর্থাৎ ৩০ এপ্রিল।
শৈশব থেকেই তিনি তার অসাধারণ গাণিতিক প্রতিভার পরিচয় দিতে শুরু করেন। কথিত আছে মাত্র তিন বছর বয়সে তিনি তাঁর বাবার হিসাবের খাতার ভুল ধরে দেন মনে মনে গণনা করে। শুধু এই নয়, একবার তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দুষ্টু ছাত্রদের ব্যস্ত রাখবার জন্যে ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সংখ্যাগুলো যোগ করতে বলেন। Gauss তাঁর শিক্ষককে অবাক করে দিয়ে মুহুর্তের মধ্যেই সঠিক উত্তরটি বের করে ফেলেন। গাউসের যোগ করার পদ্ধতিটি ছিল অত্যন্ত সহজ - তিনি লক্ষ্য করেন ধারাটির দুই বিপরীত দিক থেকে পদ নিয়ে জোড়া তৈরি করতে থাকলে তাদের যোগফল সমান থাকে। 1 + 100 = 101, 2 + 99 = 101, 3 + 98 = 101.... এবং এভাবে সম্পূর্ণ যোগফলটি দাঁড়ায় 50 × 101 = 5050। মাত্র ২১ বছর বয়সে তার নাম্বার থিওরি নিয়ে লেখা ড্রাফট ,আজও সংখ্যা তত্ত্ব বুঝতে সাহায্য করে। এখান থেকেই বোঝা যাচ্ছিল তার গণিতের পাণ্ডিত্য কতটা দানবীয় হতে চলেছে।
তিনিই প্রথম গণিতবিদ যিনি একটি কম্পাস এবং একটি সরল প্রান্ত ব্যবহার করে 17 টি পার্শ্বযুক্ত হেপটাডেকাগন (সম-সতেরোভুজ) তৈরি করেছিলেন এবং প্রথম quadratic reciprocity থিওরেম প্রমান করেছিলেন। 1799 সালে তাঁর ডক্টরাল থিসিসে তিনি বীজগণিতের মৌলিক উপপাদ্য প্রমাণ করেছিলেন যা বলে যে জটিল সহগের সাথে প্রতিটি অ-ধ্রুবক একক-পরিবর্তনশীল বহুপদীর কমপক্ষে একটি জটিল মূল থাকে।
এছাড়া জ্যোতির্বিজ্ঞানেও তার অবদান ছিল। কনিক ইকুয়েশনের মাধ্যমে তিনি বামন গ্রহ সেরেস এর পজিশন ট্রাক করেছিলেন যেটা আবিষ্কারক পীয়েজী ডিসকভার করার অনেকদিন পরও ট্রাক করতে পারছিলেন না।
এছাড়াও Non Euclidean জ্যামিতি এবং গাউসীয় জ্যামিতিতেও তার অনেক ভুমিকা রয়েছে যা ল্যান্ড সার্ভে এবং বক্ররেখা নির্ধারণে এখনও কাজে লাগে। তিনি হিলিওট্রোপ আবিষ্কার করেছিলেন, যা ল্যান্ড সার্ভেতে অবস্থান চিহ্নিত করার লক্ষ্যে ব্যবহার করে।গাউস কারটোগ্রাফি এবং ম্যাপ প্রজেকশন নিয়েও কাজ করেছিলেন। এংগেল প্রিসারভিং ম্যাপ নিয়ে তার কাজের জন্য 1823 সালে ডেনিশ একাডেমি অফ সায়েন্সর পুরষ্কার দিয়ে তাকে সম্মানিত করে।

Comments
Post a Comment