![]() |
| Image by ASSR |
ইংরেজীতে প্রচলিত একটা শব্দ আছে, "ওয়াট ইফ"। "এমন না হয়ে যদি অন্যরকম হতো", এই জায়গা থেকে উদ্ভাবনের শুরু। "হতে পারে ছোটখাট কিছু, কিন্তু এমন না করে যদি অন্য উপায়ে করা যায়" এই ধারনা থেকেই আবিষ্কারের মূল উত্থান। এই কনসেপ্ট থেকে কত মানুষের হাতধরে বিশ্ববাসী পেল হাজারো নতুন নতুন আবিষ্কার!
এইসব ব্যক্তির ইনোভেশনের ইন্সপিরেশনে তুমিও হতে পারো তাদেরই তালিকায় সামিল।
কেউ একজন একবার বলেছিলেন," উড়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমাদের পূর্বপুরুষদের দ্বারা আমাদের হাতে তুলে দেওয়া একটি ইচ্ছে, যা প্রাগৈতিহাসিক সময়ে পাখিদের আকাশ ভ্রমণ দেখে ওদের উপর এক ধরনের ঈর্ষার জন্ম দিয়েছিল। যদি আমরাও পাখির মত অনেক সময় উড়তে পারতাম! ওরা পারলে আমরা কেন নয়?"
এই ছোট্ট একটা আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রুপ দিতে দুই যুবক শুরু করলেন কঠোর পরিশ্রম। যারাই শুনত, তারাই হেসে উড়িয়ে দিত। এও কি সম্ভব?
তবে তারা থেমে থাকেনি। চালিয়ে গেলেন নানা এক্সপেরিমেন্ট। হ্যা! ব্যর্থতা এসেছে বেশ কয়েকবার।
তারা এয়ারক্রাফটের উইং ডিজাইনিং, গ্লাইডার, প্রপেলার নিয়ে বারবার পরিক্ষা নিরীক্ষা করতে লাগলেন। আকাশে বেশি সময় উড্ডয়ন আর ল্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। এজন্য অবশ্য বারবার বিভিন্ন পরিবর্তন করতে হচ্ছিল এয়ারক্রাফটে।
তারা বলেছিলেন,"আমরা উৎসাহী, পাগল নই। একটা উড়ন্তযানের যথাযথ নির্মাণ সম্পর্কে আমাদের কিছু তত্ত্ব রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে জানা সমস্তকিছু থেকে নিজের কাজটা চালিয়ে যেতে চাই। তারপরে সম্ভব হলে চূড়ান্ত সাফল্য অর্জনকারী ভবিষ্যতের কর্মীকে সহায়তা করার জন্য আমাদের জ্ঞান দিয়ে যেতে সদা আগ্রহী।"
কিন্তু একের পর এক ব্যর্থতার পথ যখন ফুরোচ্ছিলই না, তখন এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে একজন যুবক তো বলেই বসলেন, "তুমি দেখো, আগামী ৫০ বছরেও মানুষ আকাশে উড়তে পারবে না।" তখন সময় ছিল ১৯০১ সাল।
কিন্তু একদিন সফলতা ঠিক এসে ধরা দেয় তাদের সামনে। ১৭ ডিসেম্বর, ১৯০৩ সালে পাখিদের সাথে পাল্লা দেবার স্বপ্ন হাতছানি দিল সেই দুইজন যুবকের কাছে। শুরু হল হিউম্যান ফ্লাইটের নতুন এক অধ্যায়।
সেই দিনগুলোতে যদি তারা হার মেনে নিতেন, হয়তো তার দু-বছরের মাথায় ইতিহাসের পাতায় তাদের নাম অঙ্কিত হত না সোনালী অক্ষরে। তারা যদি অন্যরকম চিন্তা না করতেন, হয়তো আকাশ ছোয়ার গল্প সত্যি হতে সময় লেগে যেত আরো কয়েক যুগ। আর এই দুই যুবকই ছিলেন রাইট ব্রাদার্স!
নতুন কোন মহাসাগরে নাবিক তখনি যেতে পারে, যদি সে তার বসতির কিনারা ছেড়ে আসে। এই সাহসটুকুর জন্যে সে খোঁজ করতে পারে নতুন এক জীবনের। ঠিক তেমনি, আবিষ্কারের জন্যে চাই কিছুটা নতুন চিন্তভাবনা আর খানিকটা সাহস।
ছোট থেকে শুরু করেই তুমি হয়তো একদিন বড়কিছু আবিষ্কার করতে পারবে। থেমে থাকলে তো হেরে গেলে! চিন্তা করো, যদি রাইট ব্রাদার্স তাদের বাবার কাজটাই করে যেতেন, মানুষের কথায় দমে যেতেন; তাহলে পারতেন স্বপ্নপুরন করতে? শুধু ইচ্ছে ছিল বলেই, তারা পেরেছিলেন।
এমনি কিছু স্বপ্নবাজ মানুষের গল্পের ইন্সপিরেশন, তোমাকে যোগাবে ইনোভেশনের কৌতুহল, আর সেই অদম্য কৌতুহল নিয়ে যাবে তোমায় স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে।
আইনস্টাইনের একটা কথা দিয়ে শেষ করি,
"The true sign of intelligence is not knowledge but imagination"
ভেবে দেখো! চিন্তার চাকাটা একটু অন্যভাবে ঘোরালে, তুমিও পালটে ফেলতে পার গোটা জগত তোমার আবিষ্কারের দ্যুতিতে! কারন তারা পারলে তুমি কেন নও?
লাবিব ইয়ামেন
ইইই'১৭, রুয়েট

Comments
Post a Comment