Skip to main content

উদ্ভাবনের গল্প!

Image by ASSR
উদ্ভাবন! বেশ ভারী একটা শব্দ সত্যিই। তাই হয়তো অনেকেই ভেবে থাকে, "এসব আমাকে দিয়ে হবে না!" এই ভেবে তারা নিজের গন্ডির মধ্যে জীবন পার করে দেয়। কিন্তু আমাদের মাঝে এমন কেউ কেউ আছে যারা ভাবে, "না! এটা আরো সহজভাবে করা যায়। অথবা এভাবে করলে সময় কম লাগবে।" আর এই চিন্তা ও কৌতুহল থেকেই ইনোভেশন তথা আবিষ্কারের পদযাত্রা। 


ইংরেজীতে প্রচলিত একটা শব্দ আছে, "ওয়াট ইফ"। "এমন না হয়ে যদি অন্যরকম হতো", এই জায়গা থেকে উদ্ভাবনের শুরু। "হতে পারে ছোটখাট কিছু, কিন্তু এমন না করে যদি অন্য উপায়ে করা যায়" এই ধারনা থেকেই আবিষ্কারের মূল উত্থান। এই কনসেপ্ট থেকে কত মানুষের হাতধরে বিশ্ববাসী পেল হাজারো নতুন নতুন আবিষ্কার!

এইসব ব্যক্তির ইনোভেশনের ইন্সপিরেশনে তুমিও হতে পারো তাদেরই তালিকায় সামিল।    

কেউ একজন একবার বলেছিলেন," উড়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমাদের পূর্বপুরুষদের দ্বারা আমাদের হাতে তুলে দেওয়া একটি ইচ্ছে, যা প্রাগৈতিহাসিক সময়ে পাখিদের আকাশ ভ্রমণ দেখে ওদের উপর এক ধরনের ঈর্ষার জন্ম দিয়েছিল। যদি আমরাও পাখির মত অনেক সময় উড়তে পারতাম! ওরা পারলে আমরা কেন নয়?"

এই ছোট্ট একটা আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রুপ দিতে দুই যুবক শুরু করলেন কঠোর পরিশ্রম। যারাই শুনত, তারাই হেসে উড়িয়ে দিত। এও কি সম্ভব?

তবে তারা থেমে থাকেনি। চালিয়ে গেলেন নানা এক্সপেরিমেন্ট। হ্যা! ব্যর্থতা এসেছে বেশ কয়েকবার।

তারা এয়ারক্রাফটের উইং ডিজাইনিং, গ্লাইডার, প্রপেলার নিয়ে বারবার পরিক্ষা নিরীক্ষা করতে লাগলেন। আকাশে বেশি সময় উড্ডয়ন আর ল্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। এজন্য অবশ্য বারবার বিভিন্ন পরিবর্তন করতে হচ্ছিল এয়ারক্রাফটে। 

তারা বলেছিলেন,"আমরা উৎসাহী, পাগল নই। একটা উড়ন্তযানের যথাযথ নির্মাণ সম্পর্কে আমাদের কিছু তত্ত্ব রয়েছে।  আমরা ইতোমধ্যে জানা সমস্তকিছু থেকে নিজের কাজটা চালিয়ে যেতে চাই। তারপরে সম্ভব হলে চূড়ান্ত সাফল্য অর্জনকারী ভবিষ্যতের কর্মীকে সহায়তা করার জন্য আমাদের জ্ঞান দিয়ে যেতে সদা আগ্রহী।"

কিন্তু একের পর এক ব্যর্থতার পথ যখন ফুরোচ্ছিলই না, তখন এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে একজন যুবক তো বলেই বসলেন, "তুমি দেখো, আগামী ৫০ বছরেও মানুষ আকাশে উড়তে পারবে না।" তখন সময় ছিল ১৯০১ সাল।

কিন্তু একদিন সফলতা ঠিক এসে ধরা দেয় তাদের সামনে। ১৭ ডিসেম্বর, ১৯০৩ সালে পাখিদের সাথে পাল্লা দেবার স্বপ্ন হাতছানি দিল সেই দুইজন যুবকের কাছে। শুরু হল হিউম্যান ফ্লাইটের নতুন এক অধ্যায়। 

সেই দিনগুলোতে যদি তারা হার মেনে নিতেন, হয়তো তার দু-বছরের মাথায় ইতিহাসের পাতায় তাদের নাম অঙ্কিত হত না সোনালী অক্ষরে। তারা যদি অন্যরকম চিন্তা না করতেন, হয়তো আকাশ ছোয়ার গল্প সত্যি হতে সময় লেগে যেত আরো কয়েক যুগ। আর এই দুই যুবকই ছিলেন রাইট ব্রাদার্স!  

নতুন কোন মহাসাগরে নাবিক তখনি যেতে পারে, যদি সে তার বসতির কিনারা ছেড়ে আসে। এই সাহসটুকুর জন্যে সে খোঁজ করতে পারে নতুন এক জীবনের। ঠিক তেমনি, আবিষ্কারের জন্যে চাই কিছুটা নতুন চিন্তভাবনা আর খানিকটা সাহস। 

ছোট থেকে শুরু করেই তুমি হয়তো একদিন বড়কিছু আবিষ্কার করতে পারবে। থেমে থাকলে তো হেরে গেলে! চিন্তা করো, যদি রাইট ব্রাদার্স তাদের বাবার কাজটাই করে যেতেন, মানুষের কথায় দমে যেতেন; তাহলে পারতেন স্বপ্নপুরন করতে? শুধু ইচ্ছে ছিল বলেই, তারা পেরেছিলেন। 

এমনি কিছু স্বপ্নবাজ মানুষের গল্পের ইন্সপিরেশন, তোমাকে যোগাবে ইনোভেশনের কৌতুহল, আর সেই অদম্য কৌতুহল নিয়ে যাবে তোমায় স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে।

আইনস্টাইনের একটা কথা দিয়ে শেষ করি,

"The true sign of intelligence is not knowledge but imagination"

ভেবে দেখো! চিন্তার চাকাটা একটু অন্যভাবে ঘোরালে,  তুমিও পালটে ফেলতে পার গোটা জগত তোমার আবিষ্কারের দ্যুতিতে! কারন তারা পারলে তুমি কেন নও?


লাবিব ইয়ামেন

ইইই'১৭, রুয়েট

Comments

Popular posts from this blog

হিউ নরম্যান রস: কৌতূহলী অনুসন্ধানকারী থেকে পুরাতন পৃথিবী সৃষ্টিবাদী গোষ্ঠী "Reason to Believe" এর প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার গল্প

  সত্য-মিথ্যা, তর্কে-বিতর্কে সমৃদ্ধ এই বিজ্ঞানের পথচলার সাথে যারা প্রতিনিয়ত সৃষ্টিকর্তা ও তাঁর অসীম মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য উদঘাটনের যোগসূত্র খুঁজে বেড়াচ্ছেন, তাদের মধ্যে কানাডিয়ান অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট হিউ নরম্যান রস অন্যতম। আজ তার ছিয়াত্তরতম জন্মবার্ষিকী।  ১৯৪৫ সালের ২৪ শে জুলাই কানাডার কুইবেক, মন্ট্রিলে জন্মগ্রহণ করেন হিউ রস। জোতির্বিজ্ঞানী হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন খ্রিষ্টান অ্যাপোলোজিস্ট এবং পুরাতন পৃথিবী সৃষ্টিবাদী। তিনিই "𝐑𝐞𝐚𝐬𝐨𝐧 𝐭𝐨 𝐁𝐞𝐥𝐢𝐞𝐯𝐞" (𝐑𝐓𝐁) এর প্রতিষ্ঠাতা। প্রকৃতি ও প্রত্যেকটি সৃষ্টির মধ্যে স্রষ্টার ভূমিকা ব্যখ্যা করে তিনি অনেক বই রচনা করেছেন যা বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে। তার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো হচ্ছে: 𝐓𝐡𝐞 𝐂𝐫𝐞𝐚𝐭𝐨𝐫 𝐚𝐧𝐝 𝐭𝐡𝐞 𝐂𝐨𝐬𝐦𝐨𝐬, 𝐓𝐡𝐞 𝐅𝐢𝐧𝐠𝐞𝐫𝐩𝐫𝐢𝐧𝐭 𝐨𝐟 𝐆𝐨𝐝,𝐖𝐡𝐲 𝐭𝐡𝐞 𝐔𝐧𝐢𝐯𝐞𝐫𝐬𝐞 𝐢𝐬 𝐭𝐡𝐞 𝐰𝐚𝐲 𝐢𝐭 𝐢𝐬,𝐀 𝐌𝐚𝐭𝐭𝐞𝐫 𝐨𝐟 𝐃𝐚𝐲𝐬, 𝐁𝐞𝐲𝐨𝐧𝐝 𝐭𝐡𝐞 𝐂𝐨𝐬𝐦𝐨𝐬 ইত্যাদি।  মানবসভ্যতার প্রারম্ভ থেকেই কৌতূহল খুলে দিয়েছে নতুন নতুন উদ্ভাবনার দ্বার। হিউ রসের ক্...

পার্কার সোলার প্রোব

  আগস্ট ১২,২০১৮... মানবসভ্যতার বিজয়মুকুটে নতুন পালক যুক্ত হলো- প্রথমবারের মত কোন নক্ষত্রের একদম কাছাকাছি পৌঁছাবে মানবসৃষ্ট কোন যন্ত্র, পার্কার সোলার প্রোব! নাসার ১৫০ কোটি ডলারের মিশন ‘টাচ দ্য সান’। ইতিহাসে এই প্রথম জীবন্ত কোন মানুষের নামে মহাকাশ অভিযানের নামকরণ করা হয়... ইউজিন পার্কার, একজন জ্যোতির্পদার্থবিদ , যিনি সূর্যের করোনার বিভিন্ন ঘটনার ব্যাখা দেবার জন্য ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন! ১৯৫৮ সালে তিনিই প্রথম সৌর ঝড়(solar wind) সম্পর্কে বিশ্বকে জানান। পার্কার সোলার প্রোবকে নিয়ে পৃথিবীর মানুষের জল্পনা কল্পনার অন্ত নেই! অনেক গবেষনা আর চেষ্টার ফসল এই মিশনটিকে নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন , সূর্যের এতো কাছাকাছি টিকে থাকা যাবে কিভাবে! তাছাড়া অনেকের মনে নাসার এরকম ব্যায়বহুল মিশন নিয়ে একটা ভালো প্রশ্ন উদয় হয় , এতো টাকা খরচ করে আমাদের পৃথিবীর কি উপকারে আসবে সংশ্লিষ্ট মিশনটি! চলুন, এই পার্কার সোলার প্রোবকে জেনে নেয়ার মাধ্যমে জেনে নেই কতটা বুদ্ধিদীপ্ত উপায়ে তৈরী করা হতে পারে নক্ষত্রের কাছাকাছি যাওয়া কোন স্পেসক্রাফট! জেনে নেই এতে আমাদের লাভই বা কি হবে! পার্কার সোলার প্রোব কিঃ প্রোব হলো এক ব...

পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ, সুপারমুন বা একটি মেঘাচ্ছন্ন রাত

The total lunar eclipse of Jan 20-21,2019 Image by Imelda Joson and Edwin Aguirre   পৃথিবীব্যাপী বিবিধ পর্যবেক্ষকদের কাছে চন্দ্রগ্রহণ একটি আকাঙ্ক্ষিত মহাজাগতিক প্রদর্শনী। চাঁদ, সূর্য এবং পৃথিবী এই প্রদর্শনীটির মূল কলাকুশলী। গ্রহণের সময় এই তিনটি জ্যোতিষ্ক মোটামুটি একই সরলরেখায় অবস্থান করে থাকে। অন্যথায়, চাঁদের পৃষ্ঠে পৃথিবীর ছায়াপাত সম্ভব হয় না এবং চন্দ্রগ্রহণও সংঘটিত হতে পারে না। গ্রহণ পুরোপুরি বুঝতে গেলে আলোক উৎসের ভিত্তিতে হরেক রকম ছায়ার ব্যাপারে ধারণা থাকা জরুরি। আলোক উৎসটি যদি বিন্দু উৎস না হয় এবং আকারে প্রতিবন্ধকের তুলনায় বড় হয়, তখন উপছায়া(Penumbra) এবং প্রচ্ছায়া(Umbra) নামক দুটি ভিন্ন পরিভাষার প্রয়োজন হয়। উপছায়া অঞ্চলটি জ্যামিতিক ছায়া অঞ্চলের আবছা অন্ধকার অংশ এবং গাঢ় অন্ধকার অংশটি হলো প্রচ্ছায়া। আলোক উৎস সূর্য,প্রতিবন্ধক রূপে পৃথিবী, প্রচ্ছায়া, উপচ্ছায়া এবং Antumbra অঞ্চল যখন সূর্য,পৃথিবী এবং চাঁদ একই সরলরেখায় থাকে, এবং চাঁদটি পুরোপুরি প্রচ্ছায়া অঞ্চলে অবস্থান করতে পারে, তখন একটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ সংঘটিত হয়। চাঁদ যদি পৃথিবীর প্রচ্ছায়া অঞ্চলের আংশিক সংস্পর্শে থাকে তখন সেটিকে ব...